ফিকহুল আকবার

ফিকহুল আকবার

ইসলামি #আকিদা বিষয়ক একটি মৌলিক গ্রন্থ “আল ফিকহুল আকবার”। এটি ইসলামি আকিদার প্রাচীনতম গ্রন্থ, লিখেছেন ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেছেন আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ। এ বইটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ ও সালাফে সালেহীন ইমাম, মুজতাহিদ ও আলেমদের আকিদাকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই গ্রন্থটি আমাদেরকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের মূলধারার আকিদার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভ্রান্ত দলগুলোর বিভ্রান্তির স্বরূপ ও কারণ সম্পর্কেও অবগত করায়। আমরা দেখব আকিদা বিষয়ে বিভ্রান্তির মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কুরআন ও হাদীসের বিপরীতে আকল তথা জ্ঞানবুদ্ধিকে স্থান দেওয়া, নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ ও সাহাবীদের মতামতকে অবজ্ঞা করা। যা তাঁরা বুঝতে বা ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করেন নি, তা বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে যাওয়া। আসলে আকিদাই তো ইসলামের মূলভিত্তি। তাই এ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তো আবু হানীফা (রাহ.) ফকীহ হওয়া সত্ত্বেও ফিকহ নিয়ে নিজে কোনো কিতাব লেখেন নি, কিন্তু আকিদা বিষয়ে লিখেছেন। তিনি আকিদার জ্ঞানকে নামকরণ করেছেন “আল ফিকহুল আকবার” তথা ‘সবচে বড় ফিকহ’ নামে। মূলত তাঁর সময়েই আকিদা বিষয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেগুলো খণ্ডন করতেই তাঁর কলম ধরা। দুঃখজনক বিষয় হলো আমাদের মুসলিম সমাজে এখনো আকিদা বিষয়ে অনেক বিভ্রান্তি দেখা যায়। বরং তা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে কিছুক্ষেত্রে। ফিকহ বিষয়ে কিছু মতভেদ গ্রহণযোগ্য হলেও আকিদা বিষয়ে কোনো মতভেদ গ্রহণযোগ্য নয়। আকিদা প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে একরকমই হয়ে থাকে। আকিদা বিষয়ে বিভ্রান্তিমুক্ত সঠিক জ্ঞান লাভ করতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে নবী ও সাহাবী যুগে। আমরা দেখব আকিদা বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের সহজ-সরল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থগ্রহণই ছিল সাহাবী ও তাবেয়ীদের রীতি। আর এ বইটির অনুবাদ ও ব্যাখ্যা আমাদের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যও একই, আমরা যেন জীবনের সব ক্ষেত্রর মতো ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ আকিদার ক্ষেত্রেও হুবহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারী হতে পারি। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক লিখিত এই বইটির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দুইভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর জীবনী ও সমালোচনার ব্যাপারে দালীলিক পর্যালোচনা পেশ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় ভাগে মূল গ্রন্থটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দয়াময় আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সিরাতে মুস্তাকীমে পরিচালিত করেন, আমীন!
.
বইটির সবচে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি বইটি থেকে হুবহু তুলে দিলাম:
“সকল নবী-রাসুল তো কেবল তাওহীদের (আল্লাহর একত্ববাদের) বর্ণনা দিতে এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াত দিতে আগমন করেন। এজন্যই তাঁদের সকলের কথা ও দলীল ছিল একটিই: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য বা পূজিত নেই)’। তাঁরা তাঁদের উম্মাতদের বলেন নি যে, ‘তোমরা বল, আল্লাহ বিদ্যমান।’ বরং ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ তথা উপাস্য নেই’- এ কথাটি পরিস্কার ও প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল। কারণ এ সকল জাতির মানুষেরা কিন্তু আল্লাহর একক প্রভুত্বকে স্বীকার করত। কিন্তু তারা ধারণা করত যে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদেরও বন্দেগী করা যায়। এজন্য তারা (মুশরিকরা) বলত: ‘এরা (অর্থাৎ দেবদেবী, নেক্কার মৃত মানুষ, মাজার, পাথরসহ আল্লাহ ব্যতীত অন্য যাদেরকে তারা চূড়ান্ত ভক্তি বা বিনয় করত)আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী’, এবং ‘আমরা তো কেবল এজন্যেই তাদের ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর অধিকতর নৈকট্যে দ্রুত পৌঁছে দেবেন’।”
-(দ্বিতীয় পর্ব, প্রথম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা নং. ১৬৫)।