Skip to content Skip to footer

lottery in Islam

সম্প্রতি একজন বাংলাদেশি প্রবাসী আন্তর্জাতিক একটি লটারিতে অংশ নিয়ে ২৩ কোটি টাকা “জিতেছেন।” নিউজের কমেন্টবক্স স্বভাবতই মানুষের বিচিত্র সব আক্ষেপ-হাহাকারে পূর্ণ। এর কারণ আল্লাহ তা’আলাই বলেছেন,

“…তাদের অধিকাংশই মূর্খ।”

[সূরা আনআম, ১১১]

তাছাড়া অনেকেই হালাল-হারামের ধার ধারেন না:

“…নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে অনেকেই ফাসেক।”

[সূরা মায়িদাহ, ৪৯]

➤ অতি সংক্ষেপে ইসলামে লটারি ও হারাম উপার্জনের বিধান:

◑ জুয়ার বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে লটারি অন্যতম। আর ইসলামে যেহেতু জুয়া খেলা সম্পূর্ণ হারাম, তাই লটারিও হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক তীর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই সেগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”

[সূরা মায়িদাহ: ৯০]

◑ লটারিতে অল্প পরিমাণ মানুষ লাভবান হয়; পক্ষান্তরে, বেশিরভাগ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষকে অনেক বড় পুরস্কার জেতার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা কামানোর ফাঁদ পাতা হয়। মানুষ সেই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে অর্থকড়ি নষ্ট করে। এটি অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ লুণ্ঠনের একটি শয়তানি কৌশল ছাড়া কিছুই নয়।

সুতরাং লটারি নামক জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। অন্যথায়, আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজে অংশগ্রহণের কারণে গুনাহগার হতে হবে এবং দুনিয়াতেও নানাভাবে লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।

◑ লটারিতে অংশ নেওয়া যেহুতু হারাম, স্পষ্টতই তা থেকে উপার্জিত অর্থ-সম্পদও হারাম। সুতরাং এই অর্থসম্পদ ভোগ করা হারাম।

◑ কেউ যদি লটারিতে জেতা অর্থ দিয়ে খাবার কিনে খান আর সে খাবার দিয়ে তার শরীর গঠিত হয়, তাহলে সেই ব্যক্তির কোনো ইবাদাত-কোনো দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না, যতক্ষণ না তিনি হারাম ত্যাগ করবেন এবং তাওবা করবেন। কারণ ইবাদাত কবুলের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, হালাল রুজি।

◑ আল্লাহ তা’আলা যেহেতু পবিত্র সত্তা, অপবিত্র কোনো কিছু তিনি গ্রহণ করেন না। সুতরাং হারাম অর্থসম্পদ ব্যয়ে কৃত কোনো ইবাদাতও আল্লাহ কবুল করবেন না।উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, লটারিজয়ী ব্যক্তি যদি লটারির টাকা দিয়ে হজ করেন, তার হজ কবুল হবে না।

★ আল্লাহর নাফরমানি করে হারাম উপার্জন করে ফেলেছি, তাওবা করতে চাই। এখন এই হারাম অর্থসম্পদগুলোর কী হবে?

ক. সম্ভব হলে মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে।

খ. সম্ভব না হলে হারাম থেকে বাঁচার স্বার্থে, পরকালে আল্লাহর কঠোর আযাব থেকে রেহাই পেতে বিন্দুমাত্র সাওয়াবের আশা না রেখে হারাম অর্থসম্পদ সব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণমুখী কাজে ব্যয় করে দিতে হবে। যেমন: দুস্থ-অসহায়দের সহায়তা, মাদ্রাসা-হাসপাতাল নির্মাণ ইত্যাদি।

.

বিস্তারিত:

১. https://www.thedailystar.net/…/bangladeshi-expat-wins…

২.

https://islamqa.info/en/answers/6476/buying-lottery-tickets

৩.

https://www.islamweb.net/en/fatwa/88688/lottery-winner

Leave a Reply