Skip to content Skip to footer

Favour In office

❝ভাইয়া তোমার অফিসে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলাম। আমি কি apply করবো?❞

❝অবশ্যই এটা সম্পূর্ণ তোমার ইচ্ছা। তবে কিছু মনে করো না ভাইয়া, আমি কিন্তু এ বিষয়ে কাউকে কিছু অনুরোধ করতে পারবো না, তোমার চাকরির ব্যাপারে কোনো প্রকার হেল্প করতে পারবো না।❞

❝না না ভাইয়া, আমিও তোমার কাছ থেকে কোনো ফেভার চাই না। আমি শুধু জানতে চাচ্ছি যে, যদি আমি apply করি তোমার কোনো আপত্তি আছে কিনা? তুমিও তো ওখানে চাকরি করো।❞

❝আমার অবশ্যই কোনো আপত্তি নাই, থাকার কথাও না। তুমি apply করতে পারো।❞

আমার ছোট ভাই জব apply করে এবং আমাকে জানায় যে, তাকে ভাইভা ইন্টার্ভিউতে ডেকেছে। আমি ওকে অনুরোধ করলাম, ❝ইন্টার্ভিউয়ের দিন অফিসে প্রবেশের আগেই তুমি আমাকে কল করে জানিয়ে দিও। কারণ ঐ সময়টায় আমি অফিসে থাকবো না। কারণ আমি চাই না, তোমার ভাইভা চলার সময় আমার আচারণে ভিন্ন কিছু প্রকাশ পেয়ে যাক।❞ প্ল্যান অনুযায়ী ওর ইন্টার্ভিউ চলাকালীন সময় আমি অফিসে অনুপস্থিত থাকি। ওর ইন্টার্ভিউ শেষ হলে আবার আমাকে ফোনে জানায়, আমি অফিসে ফিরে যাই।

বেশ ক’দিন পর, ইন্টারর্ভিউ বোর্ড আমার ছোট ভাইকে ২য় ভাইভার জন্যও ডাকে। প্রথমবারের মতো সেদিনও একইভাবে অফিসে অনুপস্থিত ছিলাম। ইন্টার্ভিউ শেষে আবার অফিস ফিরে যাই।

এবার ৩য় বারের মতো ওকে অফিসে ডাকে, ছোট ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হয় আমার। আমার ভাইকে বলেছিলাম, ❝যদি বোর্ড আরো পরীক্ষা নেয়, নিক। কিন্তু যদি তোমাকে জব অফার করে, তুমি accept করার আগেই বলে দিও যে, তুমি একটা তথ্য গোপন করেছো। তারপর তুমি আমাদের দুজনের পরিচয় দিও। বিষয়টিকে বোর্ড যদি অপরাধ হিসাবে দেখে, তাহলে তো আর করার কিছু নাই।❞

৩য় দিন আমার ছোট ভাই Executive Director এর রুমে। তাকে জব অফার করা হয় এবং সাইন করতে বলা হয়। তখন ছোট ভাই স্যারকে বলে যে, তার কিছু কথা আছে। তখন স্যার আমার ছোট ভাইকে বলেছিলেন, ❝আপনি শিবলীর ভাই, এটাই তো বলবেন?❞ আমার ছোট ভাই নাকি চমকে উঠেছিলো!

ওদিকে সেদিন আমি ডেস্কেই কাজ করছিলাম। অনেক কাজের কারণে সেদিন আর অফিস থেকে বের হতে পারিনি। ED আমাকে তার রুমে ডেকে পাঠান। বুঝে গেলাম আমাদের পরিচয় দেয়া হয়েছে। রুমে প্রবেশ করার পর ED বলেছিলেন,

❝শিবলী, আপনার ছোট ভাই আপনাদের পরিচয় দেয়ার আগে থেকেই আমি জানতাম আপনারা আপন দু’ভাই।❞

❝কিভাবে জানতেন স্যার?❞

❝প্রথম দিন আপনার ছোট ভাইকে দেখেই আমার মনে হয়েছে আপনার চোখের সাথে ওর চোখের মিল আছে।❞

❝বলেন কি স্যার! আমরা নিজেরাও তো এতোটা বুঝিনাই!❞

❝তারপর আপনার সিভি চেক করে দেখি আপনাদের দুজনের বাবার নাম মিলে গেছে। শিবলী আমি খুবি খুশি হয়েছি যে, আপনি আপন ছোট ভাইয়ের চাকরির ব্যাপারে আমাকে রিকুয়েস্ট করেন নাই, অফিসের কোনো সিনিয়রের সাথে কোনো কথাও বলেন নাই, কোনো ফেভার চান নাই। আপনাদের পরিচয় জেনে যাওয়ার পরেও ইন্টার্ভিউ বোর্ডকে আমি বলিনি যে, আপনারা দু’ভাই। আপনার ছোট ভাই তার যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে।❞

আল্‌হাম্‌দুলিল্লাহ্‌ সেই অফিসে আমরা দুজন একসাথে প্রায় ১ বছরের মতো কাজ করেছি এবং আমার ছোট ভাই এক যুগের বেশি। আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর আগের ঘটনাটি মনে পড়ায় শেয়ার করলাম যেনো যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কাজে নিয়োগের বিষয়ে আমরা সকলেই সতর্ক থাকি, উৎসাহিত হই। আমরা যেনো অযোগ্য প্রার্থীর জন্য কাউকে অনুরোধ না করি এবং অপরদিকে যোগ্য প্রার্থীকে যেনো নিছক কিছু অযুহাতে বা অন্যায় কোনো শর্তে ফিরিয়ে না দেই। এটাই ন্যায়।

লেখকঃ শিবলী মেহেদী

Leave a Reply