দেহ পোশাক পর্দা ও সাজসজ্জা

দেহ পোশাক পর্দা ও সাজসজ্জা

‘সতর’ এর সংজ্ঞা কী? এর পরিধি কতটুকু? আমরা কীভাবে বুঝবো?

অত্যন্ত জটিল প্রশ্ন। যে প্রশ্নটি মানুষের ওপর ছেড়ে দিলে কখনও ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং আমরা দেখি যুগের সাথে সাথে সতর-লজ্জার সংজ্ঞা পাল্টাচ্ছে। বিংশ শতাব্দীতে মানুষ সতর এবং লজ্জা বলতে যা বুঝত, একবিংশ শতাব্দীতে এসে তা সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রী পাল্টে গেছে। নব্বই দশকের মুসলিমদের পোশাকের দৈর্ঘ্য, আর আজকের যুগের পোশাকের দৈন্যদশাই বলে দেয় মানুষের চিন্তাভাবনা এবং রুচিবোধ কতটা পরিবর্তনশীল।

নিজেকে ঢেকে রাখা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির অংশ, রুচির বিষয়। কিন্তু শরীয়ত মানুষের পরিবর্তনশীল রুচির ওপর সবকিছু ছেড়ে দেয়নি। একে ইবাদতের অংশ বানিয়েছে, সাওয়াব লাভের উপায় করে দিয়েছে, এবং নির্ধারণ করেছে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা নামক ইবলিশের তীর হতে রক্ষাকবচ হিসেবে। আর তাই ইসলামে পোশাক পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। এ ব্যাপারে ইসলাম পূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

আমাদের সমাজে ইসলামি পোশাক পর্দা নিয়ে ভুল ধারণা যেমন প্রবল, সম্প্রতি এ নিয়ে অজ্ঞতাও বেড়ে গেছে বহুগুণ। একটি শ্রেণি দাঁড়িয়েছে যারা ইসলামি এই বিধানের অপপ্রয়োগ করছে, আরেকটি শ্রেণি দাঁড়িয়েছে যারা তাদের অপরাধের অজুহাত দিয়ে ইসলামের ফরজ বিধান ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে।

এমতাবস্থায় আমাদের সকলের দায়িত্ব এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়া। এর যৌক্তিকতা বোঝা এবং পালন করা। এ ক্ষেত্রে ইসলামে সঠিক পোশাক পর্দা ও দেহ-সজ্জার পূর্ণ বিবরণ জানতে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি বেশ ফলপ্রসূ হবে আমাদের বিশ্বাস।

এহইয়াউস সুনান

এহইয়াউস সুনান

সাহাবী ইরবায ইবন সারিয়া (রাযি.) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এমন ওয়ায করলেন, তাতে অন্তরসমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল, চক্ষুগুলো অশ্রুসিক্ত হলো লোকদের। আমরা আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল, মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী নসীহত। তাই আমাদের কিছু উপদেশ দিন।’
.
নবীজি বললেন, ‘আমি তোমাদের তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি; এবং (খলিফার) কথা শোনা ও তার আনুগত্য করার—যদিও একজন কৃতদাস তোমাদের নেতৃত্ব দেয়। নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যে থেকে যে আমার পর জীবিত থাকবে, অচিরেই সে অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। (সে সময়) তোমাদের উপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত ও সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা। তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। দ্বীনের মাঝে নতুনত্ব থেকে তোমরা সাবধান থেকো। কেননা প্রত্যেক বিদআতই ভ্ৰষ্টতা।’
[সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব, হাঃ ৩৭]
.
আজ আমরা এমন যুগে বাস করছি, যেখানে সুন্নাতের নামে নানান নব উদ্ভাবিত রীতি নীতির জয়জয়কার। প্রশ্ন হলো বিদআত কী? কীভাবে এর উৎপত্তি? বিদআতের কুফল, আমাদের সমাজে কী কী বিদআত প্রচলিত আছে, কীভাবে আমরা বিদআতকে হটিয়ে নবীজির সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করব, এমন সব অতিব জরুরী বিষয় নিয়েই বইটি রচিত।

রাহে বেলায়েত

রাহে বেলায়েত

আল্লাহ কুরআনে বলেন, “তোমরা আমার যিকির কর। আমি তোমাদের যিকির করব”। [বাকারাঃ ১৫২]

আল্লাহর এই যিকির বিশ্বাসীদের জীবনের অন্যতম সম্পদ। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাওয়াব অর্জনের অন্যতম পথ। মহাশত্রু শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হৃদয়কে রক্ষা করার অন্যতম উপায় আল্লাহর যিকির। চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় আল্লাহর যিকির। ভারাক্রান্ত মানব হৃদয়কে হিংসা, বিদ্বেষ, বিরক্তি, অস্থিরতা ইত্যাদির মহাভার থেকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় আল্লাহর যিকির। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, আখিরাতের কামনা ও তাকওয়াকে হৃদয়ে সঞ্চারিত, সঞ্জীবিত, দৃঢ়তর ও স্থায়ী করার অন্যতম উপায় আল্লাহর যিকির। এর মাধ্যমে পার্থিব লোভ ও ভন্ডামী থেকে হৃদয়কে মুক্ত করা যায়। জাগতিক ভয়ভীতি ও লোভলালসা তুচ্ছ করে আল্লাহর পথে নিজেকে বিলিয়ে দিতে, তাঁর কালেমাকে উচ্চ করতে মুমিনের অন্যতম বাহন আল্লাহর যিকির।

অথচ এই মহামূল্যবান যিকিরের অপপ্রয়োগ হচ্ছে । যিকিরের নামে, দু’আর নামে, দরুদের নামে ও ওযীফার নামে বিভিন্ন বুজুর্গের বানানো শব্দ, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি অতি যত্ন সহকারে পালিত হচ্ছে কিন্তু রাসূল (সঃ) এর পদ্ধতি অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে। তাই রাসূলের (সঃ) দেখানো পথে আল্লাহ তায়ালার যিকিরের মাধ্যমে যিকিরের মূল উদ্দেশ্য আর ফায়দা যাতে হাসিল করা যায় সেই উদ্দেশ্যেই বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচনা করেছেন এই মহামূল্যবান কিতাব ‘রাহে বেলায়াত’। বইটি প্রকাশিত হয়েছে আস সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে।

রাসূল সাঃ এর সকাল সন্ধ্যার দুআ ও যিকর

রাসূল সাঃ এর সকাল সন্ধ্যার দুআ ও যিকর

সকাল-সন্ধ্যার দু’আ ও যিক্‌র
পকেট সাইজের এই পুস্তিকায় সকাল-সন্ধ্যার বিভিন্ন দুআ ও যিকর সংকলন করা হয়েছে।
এর বিশেষত্ব হলো, উচ্চারণ সহ প্রতিটি দুআ ও যিকিরের সাথে সাথে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত ফজিলতও আলোচনা করা হয়েছে।
সাথে টীকায় রেফারেন্স যুক্ত করে দেয়া হয়েছে পাঠকদের সুবিদার্থে।
পাশাপাশি এই বইয়ের সাথে একটি দুআ কার্ড রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সকাল সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর