ফিরে এসো নীড়ে

ফিরে এসো নীড়ে

বিখ্যাত আরব লেখিকা ও দাঈয়া সাইয়্যিদ ফাতিমা বিনতে খলীল। ‘ফিরে এসো নীড়ে’ মূলত উনার বিখ্যাত বই ‘দাওরুল মারআতিল মুসলিমাহ বাইনাল আসালাহ ওয়াল মুআসারাহ’ কিতাবের বাংলা অনুবাদ।
.
বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, নারীদের বিষয়ে একজন নারীরই লেখা। যেন প্রিয় বোনের প্রতি প্রিয় বোনের উপদেশ এবং প্রিয় বোনের পক্ষে প্রিয় বোনের ওকালতি— যে তাদের মন বোঝে, প্রয়োজন বোঝে। যার অকৃত্রিম আন্তরিক উপদেশে নারী পাবেন একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মা, সমাজের একটি অংশের যোগ্য প্রতিনিধি এবং অপর অংশের সফল কারিগর; সর্বোপরি দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ দাঈয়া হিসেবে একটি নতুন জীবন শুরু করার প্রেরণা।

রবের দিকে প্রত্যাবর্তন

রবের দিকে প্রত্যাবর্তন

রবের দিকে প্রত্যাবর্তন

মানুষদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ এবং তার সাহাবাদের প্রতিভা অনুসরণ করেছে। যেমন ইবাদতের শারিরীক আমলের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন মধ্যমপন্থি। অন্তরের হালচাল ও কাজ-কারবার শুদ্ধ করার ব্যাপারে তারা সংগ্রাম করেছেন। কারণ শারীরিক সফর নয়, অন্তরের সফর দ্বারাই আখিরাতের যাত্রা সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব।

এক জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে একজন লোক এসে বলল, ‘আমি অনেক সফর করেছি এবং আপনার কাছে পৌঁছতে কষ্ট হয়েছে।’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এটা দুঃসাধ্য যাত্রার ব্যাপার নয়, বরং আপনার থেকে এক কদম নিচের দূরত্বে নিজের দূরত্ব। তারপর আপনি খুঁজে পাবেন লক্ষ্যকে।’

আবু যায়েদ রহ. বলেন, ‘আমি স্বপ্নে সর্বশক্তিমান স্রষ্টা দেখতে পেলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আল্লাহ! একজন ব্যক্তি আপনার পথ কিভাবে অতিক্রম করবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “নিজেকে পরিত্যাগ কর এবং সাদর চলে আসো!” (ইবনুল জাওযি, সিফাতুস সাফওয়াহ, ভলিউম : ৪, পৃষ্ঠা: ১১১, ১৭৯)

এই উম্মাহকে যা দেওয়া হয়েছে তা আর কোন উম্মাহকে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার দিক দিয়ে দেওয়া হয়েছে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে, তিনি সর্বোত্তম সৃষ্টি, তার দিক নির্দেশনা ছিলো সর্বোত্তম দিক নির্দেশনা, তার মাধ্যমে আল্লাহ ধর্মকে সহজ করেছেন। তার মাধ্যমেই উম্মাহ্ অনেক দুর্ভোগ ও সমস্যা দূর করেছেন। যে তাকে অনুসরণ করলো সে আল্লাহকে মান্য করলো এবং তাঁর পথনির্দেশনা মেনে চলল। তার বিনিময়ে তিনি তাকে ভালোবাসবে।

ফেরা২

ফেরা২

অনুবাদক : সাদিকা সুলতানা সাকী
পৃষ্ঠা : 120

জাগতিক নিয়মে, সব পাখি নীড়ে ফেরে। ফুল ফোটে, বৃষ্টি নামে এবং নদী তার আপন পথে বাঁক নেয়। কিন্তু, ফেরে না কেবল মানুষ। অহংকার আর অহমিকার দহনে তার বুকের ভেতরে জিইয়ে রাখে পাহাড়সম আগুন। সেই আগুনে ঝলসে যায় সে নিজে এবং ঝলসে দিতে চায় তার চারপাশ। মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ আর বেপরোয়া। সে তার অস্তিত্বের কার্যকারণ ডিঙিয়ে নিজেকে আমিত্বের আসনে দেখতে চায়। নিজের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতি চূড়ান্ত ভাবলেশহীন হয়ে সে নিজেকে অনন্ত-অসীমে কল্পনা করে বসে। ফলে সে বিচ্যুত হয়। পদস্খলন ঘটে তার। যুগে যুগে যাদের ধ্বংসের পদধ্বনি আমরা শুনতে পাই, তাদের সকলের যেন একই গল্প, একই চিত্রনাট্য—ঔদ্ধত্য, অহংকার আর অনাচার। এক মহাসত্যকে পাশ কাটিয়ে, নিজেকে নিয়ন্ত্রকের আসনে যখনই সে আসীন করতে গেছে, তখনই ধ্বংস অনিবার্য হয়ে নিপতিত হয়েছে তার ওপর।

তবু, কারও কারও গল্পটা অন্যরকম। তবু, কেউ কেউ ফিরে আসে। খুঁজে পায় পথ। খুঁজে নেয় অন্তিম অবসরের অনন্ত আবাসস্থল। ফিরে আসা এমন দুটো পবিত্র আত্মার যাপিত-জীবনের রং-তুলিতে নির্মিত আমাদের ফেরা-২।

গল্পের ভেতরেও গল্প থাকে, পরিচ্ছেদের ভেতরেও থাকে উপ-পরিচ্ছেদ। আমাদের গল্পটা ভিন্ন। এই গল্পটা একেবারে ডুবে যাওয়ার গল্প নয়, বরং ডুবতে ডুবতে হঠাৎ মাঝ-সাগরে জাহাজের মাস্তুল পেয়ে যাবার মতোই। এই গল্পটি হারিয়ে যাবার গল্প নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পাবার উপাখ্যান। তাই, এই গল্পটি একটু অন্যরকম।

দুজন হিন্দু বোন, যারা আশৈশব দেব-দেবীর পূজো-অর্চনা করেছে, মণ্ডপে যারা নিবেদন করেছে গভীর অনুরাগের নৈবেদ্য, তারা কোন জাদুকরী মন্ত্রে খুঁজে পেল ইসলাম? মন্দিরের ঘণ্টার শব্দ, পূজো-পার্বনের কীর্তনের সুর যাদের রক্তে মেশা, তারা কেনই-বা মগ্ন হলো মিনার থেকে ধেয়ে আসা আযানের ধ্বনিতে? ‘ফেরা-২’ এমনই এক যাপিত-জীবনের উপাখ্যান, কিংবা মহাকাব্যের চেয়েও বেশি কিছু।

মূল বইটি উর্দু ভাষায় রচিত। লেখিকা বিনতু আদিলের জন্য আমাদের অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর দুআ রইল। আর জীবনের নতুন অনুচ্ছেদ যারা শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের জীবন রঙিন এবং সুখময় হবে, অনন্ত আখিরাতে রহমানের আরশের সুশীতল ছায়ায় আশ্রিত হয়ে ধন্য হবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা। সাথে, এই বইটি এমন হাজারো পথহারা পথিকের জন্য পথ খুঁজে পাওয়ার দিশা হবে, ঘুম ভাঙানোর কারণ হবে, এই কামনা।