জীবন যদি হতো নারী সাহাবির মতো

জীবন যদি হতো নারী সাহাবির মতো

অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মজুমদার

মক্কা নগরীতে একজ মহামানবের আবির্ভাব হলো, আসমান থেকে তার ওপর নেমে এলো এক ঐশী আলোক রেখা, দলে দলে মানুষ সেই মহামানবের ডাকে সমবেত হতে শুরু করল। একটি অত্যুজ্জ্বল আলোর পানে ছুটে আসতে লাগল তৃষিত সব প্রাণ। সেই তৃষ্ণার্ত, ক্ষুধিত প্রাণের মানুষগুলোর মাঝে, বিশাল একটি সংখ্যা ছিল নারীদের। নারী সাহাবিদের। রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না। নবিজি যখন এক চরম, পরম ও মহাসত্যের দিকে মানুষকে আহ্বান করলেন, তখন অনেকের মতো চারদিক থেকে তৃষিত হৃদয়ে ছুটে এলো নারীদের দলও। তারাও বরণ করে নিল সত্যের পেয়ালা। যে অমৃত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধারণ করে এনেছেন হেরা পর্বত থেকে, সেই অমৃত পান করতে উদগ্রীব হয়ে পড়লেন তারাও।

সত্যের এই মিছিলে যোগদান তাদের জন্য সহজ ছিল না মোটেও। নবিজির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে তারা হয়েছেন ঘরহারা। হারিয়েছেন প্রিয় মানুষ, প্রিয় মুখ। সত্যকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে গিয়ে তারা হিজরত করেছেন। ছেড়ে এসেছেন প্রিয় জন্মভূমি। এমনকি হাসিমুখে মৃত্যুর মিছিলেও তারা অংশ নিয়েছেন। তবু যে অমৃত তারা পান করেছেন, যে রঙে রাঙিয়েছেন জীবন, যে সুরে আবগাহন করেছেন তনুমন, সেই অমৃত, সেই রং, সেই সুর থেকে তারা একচুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি। এতটাই দৃঢ় আর অবিচল ছিল তাদের ঈমান।

ঐশী আলোর ঝলকানিতে আমাদের নারী সাহাবিগণ তাদের জীবনকে করেছেন আলোকময়, যে সুর আর লহরির মাঝে তারা হারিয়ে গেছেন, সত্যের পথে হাঁটতে তারা যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, যে বিসর্জন দিয়েছেন, তা-ই উপজীব্য হয়ে উঠে এসেছে আমাদের ‘জীবন যদি হতো নারী সাহাবির মতো’ বইতে। সত্য আর সুন্দরের জন্য তাদের কুরবানি, তাদের আত্মত্যাগের গল্পগুলো থেকে আমরা খুঁজে নেব আমাদের জীবনের রসদ। রাঙিয়ে নেব আমাদের জীবনোধ্যায়। শুধরে নেব ভুল। জাগিয়ে তুলব বিস্মৃত অন্তর।

পুণ্যবতী মহীয়সী নারীদের জীবনের গল্প

পুণ্যবতী মহীয়সী নারীদের জীবনের গল্প

আমাদের নারীরা একত্র হলে তাদের গল্পের প্রধান বিষয়বস্তু হয় নাটক-সিনেমা, হিন্দি সিরিয়ালের কার কোন চরিত্র পছন্দ, কোন পোশাকগুলো ভালো লেগেছে, কার ঘরে কেমন ফার্নিচার-স্বর্ণালংকার আছে, কার স্বামীরা কেমন, কে কোন কোন দেশ ঘুরতে গিয়েছিল, কার ঘরে কী নেই, কে কোন পেরেশানিতে আছে, ইত্যাদি। কথায় আছে, “আমাদের নারীরা একশত টেনশন নিয়ে ঘুমোতে যায়, একটা নিজের, বাকী নিরানব্বইটা পাড়া-প্রতিবেশীর।” আর পরনিন্দা এবং গীবতচর্চা এখন মহামারীর পর্যায়ে। আজকের নারীরা যতজন নায়ক-নায়িকা-মডেলদের চেনে, মহীয়সী নারীদের তার সিকিভাগও চেনে না। এরা তথাকথিত মডেলদের মতো নিজের জীবনকে রঙিন করে সাজাতে চায়, কিন্তু বাস্তব জীবনে সুখের লেশমাত্র নেই। মুক্ত চিন্তার নগ্ন চর্চা আর বাঁধাহীন ডানা মেলে উড়তে গিয়ে পারিবার গুলো আজ ভঙ্গুর। রঙিন স্বপ্নে বিভোর এই নারীদের কোলে তাই জন্ম নেয় না বিশুদ্ধ মানুষ। নিত্যদিনের খুন-ধর্ষণ-পরকীয়া এগুলোর চাক্ষুষ সাক্ষ্য বহন করে। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় আমাদের পূর্বসূরি মহীয়সী নারীদের জীবন থেকে আলো গ্রহণ করে জীবনে এ পবিত্র আলো প্রতিফলিত করা।
.
দ্বীন পাবলিকেশনের অন্যতম উদ্দেশ্য পূর্ববর্তী মহীয়সী নারীদের জীবনী পাঠের মাধ্যমে আমাদের নারীদেরকে আলোকিত করা। এজন্য আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে উম্মুল মুমিনীন সিরিজ দিয়ে। উদ্দেশ্য; জান্নাতী এই নারীদের পরিচ্ছন্ন ও সুরভিত জীবনের মুহূর্তগুলো সরল ভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তোলা। তাদের প্রাত্যহিক জীবনের গল্প, নবীজির সাথে মধুর খুনশুটি এবং আখিরাতমুখিতায় তাদের প্রতিযোগিতার কিরণ বর্ণের গাঁথুনিতে বিকীর্ণ করা। যেন এ কালের নারীরা এই আলোয় স্নাত হয়ে ঘরে দীপ্ত করতে পারে জান্নাতের নির্মল আলো।
.
এই বইয়ে যেমন আলোচিত হয়েছে তিন স্বর্ণযুগ স্পর্শ করা নারীদের চিত্র, তেমনি আলোচিত হয়েছে এই উপমহাদেশের মহীয়সী নারীদেরও গল্প। আশা করছি তাদের সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঈমানদীপ্ত গল্পগুলো পড়ে আমাদের নারীরা পাথেয় সংগ্রহ করে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করতে পারবেন।

হিজাব আমার পরিচয়

হিজাব আমার পরিচয়

হিজাব শুধু একটা জামা না। এটা একটা জীবন-পদ্ধতি। যে নারী এটা পরবে, সে তার আদর্শিক পরিচয় মানুষের সামনে তুলে ধরবে। প্রত্যেক মুসলিম মেয়েকে চেনা যায় তার সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব দিয়ে। লজ্জাশীলতা ও উত্তম চরিত্র দিয়ে। আর এসবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে হিজাবের মাধ্যমে। পর্দানশীন মেয়েরা এই বার্তা দিয়ে যায় যে, তারা অন্যান্যদের থেকে আলাদা। চিন্তা-চেতনা, চাল-চলন, রুচি ও মননে তারা অনেক উঁচু মাপের। সম্ভ্রান্ত। তাদের জীবনযাত্রা মানুষের জন্যে অনুসরণীয়, অনুকরণীয়।

হিজাবকে পাঠানো হয়েছে আসমানের ওপর থেকে। সে তোমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তোমার ঈমানি সত্তার পরিচয় বহনকারী। এটা একটা আদর্শিক পরিচয়। তুমি কোন জীবন-দর্শন অনুসারে চলো, তার পরিচয়বাহক। তুমি যে মুসলিম নারী, তার প্রকাশ ঘটে হিজাবের মাধ্যমে। হিজাব তোমার পরিচয়।

প্রিয়তমা

প্রিয়তমা

আয়েশার সঙ্গে রাসুল মুহাম্মদের (সা.) দাম্পত্যজীবন কি অসুখী ছিলো? একজন কেবলই কিশোরী, আরেকজন পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবল ব্যক্তিত্ববান মানুষ; কেমন ছিলো অসম বয়সী এ দুজনের প্রেমময় সংসারের হালচাল? ঝগড়া হতো? খুনসুটি? মান-অভিমানে কান্না হতো?
খাদিজা (রা.) কেন প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে হাত বাড়িয়ে আগলে নিলেন যুবক মুহাম্মদের হাত? মুহাম্মদ (সা.) যেদিন নবি হলেন, ভয়ে কাঁপছিলেন তিনি; খাদিজা তাঁকে বুকে জড়িয়ে কেন বলেছিলেন, ‘ভয় নেই আপনার’?
কেন সুদূর ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান নাজ্জাশির রাজপ্রাসাদে আয়োজন করা হলো মুহাম্মদ (সা.) এবং কুরাইশকন্যা উম্মে হাবিবার বিয়ে? কেন ইহুদি রাজকুমারী সাফিয়্যাকে যুদ্ধদাসী থেকে বরণ করে নিলেন উম্মুল মুমিনিন হিসেবে?
রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর ১১ জন স্ত্রীর দাম্পত্যজীবন ও প্রেমের অসংখ্য গল্পভাষ্য নিয়ে রচিত ইতিহাস-অনুসন্ধানী লেখক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর-এর অনবদ্য উপাখ্যানগ্রন্থ ‘প্রিয়তমা’। একদিকে নিরেট নির্মোহ ইতিহাসের বর্ণিল আয়োজন, আরেক দিকে উম্মুল মুমিনিনদের জীবনের অনালোচিত অধ্যায়ের নতুন আবিস্কার। নতুন ভাষা ও প্রাঞ্জল গদ্যে রাসুলের দাম্পত্যজীবনের পূর্ণ ছায়াছবি উঠে এসেছে এ গ্রন্থে।

মহিলা মাসাইল

মহিলা মাসাইল

বনি আদমের যে কয়জন নারী সর্বাধিক সম্মান্বিত এবং মর্যাদার অধিকারী, তাদের মধ্যে মারয়্যাম আ., ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া আ., রসূল ﷺ এর দুজন স্ত্রী খাদিজাহ রাযি এবং আইশাহ রাযি.।
তাদের প্রত্যেকের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য ছিল, যা তাদেরকে এত উঁচু মর্যাদার অধিকারী হতে সহায়ক হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, আল্লাহর শরিয়াহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। পরিবেশ পরিস্থিতি যতটাই প্রতিকূলে থাকুক, তারা দ্বীনে ইলাহির রজ্জু শক্ত করে ধরে থেকেছেন।
.
কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, যেদিন থেকে মুসলিম নারীরা ঘর ছেড়ে দুনিয়া অর্জনে পুরুষের সাথে কাধে কাধে মিলিয়ে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হলো, সেদিন থেকে উম্মাহ মারয়্যাম, খাদিজা, আয়িসাহ রাযি. দের মত মুসলিমাহদের হারাতে শুরু করল। পিছিয়ে গেল মুত্তাকীদের প্রতিযোগীতায়। ইলম অর্জনে আজ এতটাই পিছিয়ে যে, এই অবস্থা লিখে বলার মত না।
.
নারী সমাজের জন্য দ্বীনি ইলম সম্পৃক্ত গ্রন্থ বই রচনা করা এখন সময়ের দাবী। যে কিতাবের আহ্বান হবে দ্বীনের পথে ফিরে আসার, এবং দিক নির্দেশনা মিলবে জান্নাতের উঁচু মাকামে পৌছার। নারীদের যাবতীয় মাসআলা নিয়ে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য একটি বই হচ্ছে ‘আহকামুন নিসা’। হানাফি ফিকহের আলোকে রচিত। ঠিক এরকমই একটি অসাধারণ বই ‘মহিলা মাসাইল’। আরবের শীর্ষস্থানীয় তিন জন স্কলার- শায়খ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায; শায়খ মুহাম্মাদ ইবন উসায়মীন; শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল জিবরীন ও স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির থেকে নির্বাচিত নারী বিষয়ক সকল জাওয়াব এই গ্রন্থে সংকলন করা হয়েছে। মুসলিম নারীর আকিদা বিশ্বাস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় ফরজ এবং ওয়াজিব ইলম এক কভারে। আমাদের যেসব বোনেরা কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইলমে দ্বীনের ফরজ পরিমাণ ইলম অর্জন করতে চান, তাদের জন্য আবশ্যক পর্যায়ের বই এটি। ৩০৪ পৃষ্ঠার এই বইতে মুসলিম নারীর এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে আলোচনা আসেনি।